ঢাকা , সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬ , ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফর আরও দ্রুত হওয়া উচিত’

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ১৭-০৮-২০২৬ ০১:০৬:৪১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৭-০৮-২০২৬ ০১:০৬:৪১ অপরাহ্ন
‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফর আরও দ্রুত হওয়া উচিত’ ​ফাইল ছবি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর আরও দ্রুত হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক ও পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার যেকোনো সমস্যা সমাধান করা সম্ভব বলেও আশাবাদ জানিয়েছেন তিনি। 

রাজধানীর বারিধারায় বাংলাদেশে আয়ারল্যান্ডের অনারারি কনসাল মাসুদ জামিল খান ও তার স্ত্রী কেট জারো খানের আয়োজিত এক নৈশভোজে স্বাগত বক্তব্যে এসব কথা বলেন ভারতীয় হাইকমিশনার। বার্তা সংস্থা ইউএনবি এ তথ্য জানিয়েছে।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ত্রিবেদী বলেন, ‘বৈঠকের মাধ্যমেই কেবল সমস্যাগুলো সমাধান করা সম্ভব এবং আমি অত্যন্ত আশাবাদী।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত শুধু একটি সীমান্ত ভাগাভাগি করে না, বাস্তবে দুই দেশ একটি অভিন্ন স্বপ্নও ভাগ করে নেয়। দুই দেশের মানুষের হৃদয় খুব কাছাকাছি উল্লেখ করে তিনি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের একটি ‘সোনালি অধ্যায়’ দেখতে চান বলেও জানান।

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত দুটি সার্বভৌম দেশ এবং দুই দেশের নিজেদের অবস্থান ও মতপার্থক্য রয়েছে। এসব মতপার্থক্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বাভাবিক অংশ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তার ভাষায়, দুই দেশের চ্যালেঞ্জ ও বিতর্ক থাকতেই পারে। তবে উভয় দেশের লক্ষ্য যদি একই থাকে এবং দুই দেশের মানুষসহ বিশ্বের মানুষ যদি মর্যাদা, সম্মান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা নিয়ে বসবাস করতে পারে, তাহলে সামনে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। বাংলাদেশক্রিকেট

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে শীর্ষ নেতৃত্বের যোগাযোগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ত্রিবেদী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দুজনই জনগণের নেতা। তারা যখন একসঙ্গে বসে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন, তখন এমন কোনো সমস্যা বা ইস্যু নেই, যা আলোচনা করে সমাধান করা যাবে না।

তিনি বলেন, ‘আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই। আমাদের আমন্ত্রণ রয়েছে। আমরা ইতিবাচকভাবে বিশ্বাস করি, দুই নেতা যদি একসঙ্গে বৈঠক করেন, তাহলে আলোচনা হবে।’

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের জনগণের একমাত্র প্রত্যাশা ভালো সম্পর্ক। ভালো সম্পর্ক তৈরি হলে তা উভয় দেশের জন্যই ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরি করবে।

এর আগে শনিবার (১৫ আগস্ট) ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনে ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ত্রিবেদী। সেখানে তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন খাতে অংশীদারত্ব আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।

তিনি বলেন, বাণিজ্য ও যোগাযোগ থেকে শুরু করে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের অংশীদারত্ব এগিয়ে যাচ্ছে। অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা ও পারস্পরিক সদিচ্ছার ওপর প্রতিষ্ঠিত জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগই দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের মূল ভিত্তি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

দুই দেশকে অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্বের ‘অসাধারণ বন্ধন’ আরও লালন করতে হবে।

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের ঐতিহাসিক ভিত্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, দুই দেশ স্বাধীনতা সংগ্রামের অভিন্ন ইতিহাসের বন্ধনে আবদ্ধ। অভিন্ন ইতিহাস, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অংশীদারত্বের ভিত্তির ওপর দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমাগত বিকশিত হচ্ছে।

বারিধারার নৈশভোজে ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, সাবেক কূটনীতিক, ব্যবসায়ী, বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং সাবেক বেসামরিক ও প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ